ফরাসি-ইসরায়েলি নাগরিকরা “ফ্রান্সের সন্তান” তাদের কখনোই গণহত্যাকারী বলা উচিত নয়: ম্যাক্রোঁ
ফরাসি ইহুদি সম্প্রদায়ভিত্তিক রেডিও স্টেশন রেডিও জে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই প্রজাতন্ত্রের লড়াই।
ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা মেনে নিতে পারি না, কখনোই মেনে নেওয়া উচিত নয় যে আমাদের কোনো সন্তান, কোনো ফরাসি নাগরিককে গণহত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হবে।”
“এটা অসম্ভব, এবং এটি এমন মূল্যবোধের উল্টো রূপ, যার কাছে আমাদের নতিস্বীকার করা চলবে না।”
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “কিছু মানুষ, যারা কখনও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, যারা বিভিন্ন ন্যায্য কারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে ইহুদি সহনাগরিকদের অমানবিক ও একমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।”
তিনি সম্ভবত ফ্রান্সের প্রো-প্যালেস্টাইন কর্মী ও বামপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। গত মাসে ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আইন কমিটি “ইহুদিবিদ্বেষের নতুন রূপ” মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি বিতর্কিত বিল গ্রহণ করে, যা ইসরায়েলের সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ এক্স-এ এক পোস্টে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, “আমরা কারও জাতীয়তার ভিত্তিতে তাকে অপরাধী বা গণহত্যাকারী আখ্যা দিই না; এটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব আদালতের।”
তিনি আরও বলেন, “যে কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে থাকে, যার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অভিযুক্ত, বিচার ও দণ্ডিত করা যেতে পারে।”
গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ
ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ৩ ফেব্রুয়ারি ফরাসি কর্তৃপক্ষ দুই ফ্রাঙ্কো-ইসরায়েলি নাগরিকের বিরুদ্ধে “গণহত্যায় সহযোগিতা” অভিযোগে পরোয়ানা জারি করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—ইসরায়েলের গণহত্যার সময় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এই পরোয়ানায় তাদের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে, তবে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত দুই নারী হলেন নিলি কুপফার-নাউরি—যিনি Israel Is Forever সংগঠনের নেতৃত্ব দেন—এবং র্যাচেল তুইতো, যিনি কট্টর ডানপন্থী সংগঠন Tsav 9-এর সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মী। তারা ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্তমানে ইসরায়েলে বসবাস করছেন।
গত বছর প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং অধিকারবিষয়ক সংগঠন আল-হক ও আল-মেজান অভিযোগ দায়ের করার পর এই পরোয়ানা জারি হয়। তারা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে সরাসরি বাধা দেওয়া দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
২০২৪ সালের জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর Tsav 9-কে “সহিংস উগ্রপন্থী ইসরায়েলি গোষ্ঠী” হিসেবে চিহ্নিত করে, যারা গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা বহনকারী বহরে বাধা, হয়রানি ও ক্ষতি করেছে।
উভয় কর্মী নিজেদের পক্ষে দাবি করেন, তারা সীমান্তে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন।
এএফপি সূত্রে জানা যায়, তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে আরও প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে পারে।
জুলাই মাসে একদল এনজিও আরও দুই ফরাসি-ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে “যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা” অভিযোগে বিচারিক তদন্তের আবেদন জানিয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে বলে লে মোঁদে পত্রিকা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত দুই সেনা—সাশা এ এবং গ্যাব্রিয়েল বি এইচ—এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে নিরস্ত্র ডজনাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন।
ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক আইন অনুযায়ী বিদেশে বসবাসকারী দ্বৈত নাগরিকরা অব্যাহতি পেলেও, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ৬,১০০-র বেশি ফরাসি নাগরিক স্বেচ্ছায় এই সময়ে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।



















