বুঝে উঠার আগেই ‘নগ্নতার শিকার’কিশোরী!
যুক্তরাষ্ট্রে এলিস্টন বেরি নামে ১৪ বছরের এক কিশোরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি ভুয়া নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জীবনের শুরুতে ভোগান্তির মুখে পড়েছিলেন । স্কুলের তারই এক সহপাঠী কৃত্রিমভাবে ছবি তৈরি করে তার নামে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়।
এলিস্টন বেরি ১৬ বছর বয়সে এসে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিক্ষার্থী যেন একই পরিস্থিতিতে একাকী হয়ে না পড়ে-সে লক্ষ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন ।
তিনি অনলাইনভিত্তিক একটি প্রশিক্ষণ কোর্স তৈরিতে যুক্ত হন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও অনলাইন হয়রানি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। কোর্সটি তৈরি করা হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাডাপটিভ সিকিউরিটি এবং প্যাথস কলসাল্টিং গ্রুপ-এর সহযোগিতায়।
খবর সিএনএনের।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইভিত্তিক এ সম্পর্কিত বিভিন্ন টুল সহজলভ্য হয়ে পড়ায় এ ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
গবেষণা সংস্থা থর্ন–এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আটজন কিশোরের একজন এমন কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, যিনি এই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন কার্যকর হয়েছে, যেখানে কারও অনুমতি ছাড়া তৈরি বিভ্রান্তিকর ব্যক্তিগত ছবি ছড়ালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইন পাসের পক্ষে প্রচারে এলিস্টন বেরি নিজেও যুক্ত ছিলেন। প্রায় ১৭ মিনিটের এই অনলাইন কোর্সে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি শনাক্ত করার উপায়, অনলাইন হয়রানি বোঝা, এবং সমস্যার মুখে পড়লে করণীয় বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সহায়তামূলক সংস্থা রেইনের-এর তথ্য, আইনি সহায়তার পথ এবং কীভাবে দ্রুত অনলাইন কনটেন্ট অপসারণের আবেদন করা যায়-সেসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এলিস্টন বেরি জানান, একসময় তার সেই সব ছবি সরাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। নতুন আইনের ফলে এখন এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ সিকিউরিটি–এর প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান লং বলেন, এ ধরনের কাজকে কখনোই তুচ্ছ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এগুলো মানুষের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সচেতনতা তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি বিনা মূল্যে স্কুল ও অভিভাবকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এলিস্টন বেরির ভাষায়, ‘এই বিষয়ে কথা বলা, শেখা এবং অন্যদের জানানো-এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’



















