দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়: কারা, কখন, এরপর...
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট৩০০টি আসনথাকে। দেশের জনগণ ৩০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি সংসদে পাঠান। যদি কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে ৩০০ আসনের মধ্যে২০০ বা তার বেশি আসন জয়ী হয়, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়, তাহলে সেটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কারণ সংসদে অন্তত২০০ সদস্যের সমর্থন থাকলেই সংবিধান পরিবর্তন করা যায়।
যদি কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে৩০০টি আসনের মধ্যে ২০০ বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়, অর্থাৎসংসদের তিন ভাগের দুই ভাগের বেশি আসনদখল করে, তখন তাকে বলা হয়দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী। এই জয় কেবল সংখ্যাগত নয়, এটি সংসদে আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে দলের জন্য বিশাল ক্ষমতার সুযোগ তৈরি করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনেআওয়ামী লীগএবং ২০২৬ সালের নির্বাচনেবিএনপিএই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার একটি কারণ হলো, এতগুলো আসনে নিজেদের প্রতিনিধি থাকার ফলে সংসদে যেকোনো আইন প্রণয়ন সহজ হয়, এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে পরিচিত সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।
কারণ সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন অর্থাৎ অন্তত ২০০ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়।
অনেকের মতে, অতীতে দেখা গেছে এমন জয় কখনও কখনও 'ফ্যাসিস্ট' শাসক তৈরি করার ক্ষেত্রেও ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ঘটনার সংখ্যা কম না, যেখানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করে বদলে দিয়েছে ইতিহাসের পথরেখা।
দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সংবিধান পরিবর্তনের হিড়িক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিক জাতীয় নির্বাচনে দেখা গেছে, কোনোএকক রাজনৈতিক দল বা জোটসংসদেরদুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ীহয়েছে। এই ধরনের জয় কেবল সংখ্যাগত নয়, বরং এটি দেশেরআইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাপ্রদান করে।
সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনউল্লেখযোগ্য। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগ২৫৭টি আসনে জয়ীহয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংসদে আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের বাধা কমে যায় এবং সরকারের পক্ষে বিরোধী দলের ভূমিকা কার্যত শূন্যের কোঠায় চলে আসে।
২০১৮ সালের আরেক বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭ আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশ নিলেও আগের রাতে বেশিরভাগ আসনে ভোট বাক্স ভরে রাখায় ওই নির্বাচন 'রাতের ভোট' হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিল।
তবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবশেষ উদাহরণ ছিল ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন।
সেই নির্বাচনে ২৩০টি আসনে এককভাবে জয় পায় আওয়ামী লীগ, জোট শরিকসহ যে সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬২টিতে।
নির্বাচনের পর আদালতের আদেশের পথ ধরে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এছাড়া সংবিধানে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়।
যদিও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনরুজ্জীবিত করে। এর ফলে ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনগুলো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন মেয়াদে বিরোধিতাহীন সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন বেশ কিছু বিতর্কিত আইন পাস করে আওয়ামী লীগ সরকার। সেসব আইন পাস করাতে আওয়ামী লীগকে সংসদে বড় কোনো বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়নি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংবিধান পরিবর্তনের ঘটনা আরো আছে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৩টি আসনে জয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীসহ চার দলীয় জোট মিলে ২১৬টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে তারা, যে সরকার চার দলীয় জোট সরকার হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিল।
পাঁচ বছর পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এলে নিজেদের পছন্দের প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য অবসরের বয়স সীমা বাড়িয়ে পরিবর্তন আনা হয় সংবিধানে, যা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল সে সময়কার বিরোধী দল আওয়ামী লীগ।
অতীতে একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান না করার দাবি আদায়ে আওয়ামী লীগের অনড় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলে দৃশ্যপটে হাজির হয় সেনা সমর্থিত সরকার। সেখান থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
তবে এই ধারাবাহিকতাও আবার একদিনের না। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সংবিধান পরিবর্তন করে বাতিল করেছিল, সেই ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের দাবি ও আন্দোলনের মুখে, ১৯৯৬ সালে।
১৯৯১ সালে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও ক্ষমতা ছাড়ার সময় সেই ব্যবস্থা প্রয়োগে অসম্মতি জানায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। কারণ তখন সংবিধানে তত্ত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থা বলে কিছু ছিল না। বিশেষ করে সেই দাবি আরো জোরালো হয় ১৯৯৫ সালে মাগুরা উপ নির্বাচনের পরে, যে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ছিল।
দলীয় সরকারের অধীনেই আয়োজিত ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে ২৭৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
তীব্র আন্দোলনের মুখে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাশ করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। চার মাসেরও কম সময় পর আয়োজিত হয় সপ্তম সংসদ নির্বাচন।
এতো গেলো সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়কে কেন্দ্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফিরিস্তি। এর বাইরেও সংবিধান পরিবর্তন করে শাসন কাঠামো পরিবর্তন এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষ্যে, সংবিধানের 'ইসলামীকরণ' হয়েছিল একই প্রক্রিয়ায়।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন আয়োজন হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সেই নির্বাচনে কারচুপির নানা অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। ওই নির্বাচনে ২৯৩টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ।
কিন্তু এর দুই বছরেরও কম সময় পর ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধান পরিবর্তন করে প্রথমে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় ফিরে যায় দেশ।
এর পরের মাসে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল। মোটাদাগে বদলে যায় দেশের পুরো শাসন কাঠামোই।
পরবর্তী সময়ে সামরিক অভ্যুত্থানে স্বপরিবারে শেখ মুজিবের মৃত্যু, দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার পালাবদলের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন সেনাশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। দেশে জারি হয় মার্শাল ল।
মার্শাল ল ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।
মোশতাক সরকারের সময়েই আইন করে শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়।
বিচারপতি সায়েম সরকারের সময় এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বেশ কয়েক দফায় মার্শাল ল অধ্যাদেশ জারি করে সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূলনীতিতে পরিবর্তন করা হয়।
সংবিধানের শুরুতে যুক্ত করা হয় 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'। "ধর্মনিরপেক্ষতা" বাদ দিয়ে সংস্থাপন করা হয় "মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস"। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বদলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করা হয়।
একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বাতিল করে পুনরায় বহুদলীয় রাজনীতি চালু হয়। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, ফলে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো পুনরায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে।
যুদ্ধপরাধে অভিযুক্তদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
১৯৭৯ সালে আয়োজিত হয় দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন, যেখানে বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়।
বিএনপির সরকার পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এর আগের তিনটি সরকারের সময় মার্শাল ল আইনে জারি যাবতীয় অধ্যাদেশ ও আদেশকে বৈধতা দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে।
পরবর্তীতে অবশ্য এই সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট।
জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর আবারও টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়ে বাংলাদেশের রাজনীতি। ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
চার বছর পর ১৯৮৬ সালে তৃতীয় আর তার ১৭ মাস পর ১৯৮৮ সালে আয়োজিত হয় চতুর্থ সংসদ নির্বাচন। ২৫১টি আসন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টি।
এরশাদের শাসনামলে প্রথমে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত সামরিক সরকারের আমলে নেওয়া আদেশ ও কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়।
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে স্বীকৃতি দেয়া হয় রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে।
সেই সংশোধনীতে হাই কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ, বেঙ্গলির পরিবর্তনে বাংলা ও ঢাক্কার পরিবর্তে ঢাকার মতো বানানেরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। যদিও হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
দেখা যাচ্ছে ‘কর্তৃত্ববাদী’ হওয়ার প্রবণতা
বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল যদিদুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ীহয়, তখন তারা সংসদে সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন হয়ে যায়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে রাজনৈতিক দলের মধ্যেকর্তৃত্ববাদী প্রবণতাতৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকমহিউদ্দিন আহমদবলেন, "১৯৭৩, ২০০১ ও ২০০৮ সালের উদাহরণ থেকে দেখা যায়, যখন কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়েছে, তখন জাতীয় সংসদ আর সক্রিয় বা প্রাণবন্ত থাকে না এবং একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়।"
২০২৬ সালের১২ ফেব্রুয়ারিঅনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলবিএনপিসরকার গঠনের জন্যনিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাঅর্জন করেছে। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা মিলিয়েএখন পর্যন্ত ২১২টি আসনে জয়ীহয়েছেন। আরও কয়েকটি আসনে ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষা চলছে।
মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, "অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপি যদি ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি ধরে রাখার অভ্যাস থেকে সরে আসে, তবে আমরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত দেখতে পারব।"



















