ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ০৯:০৪ এম, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে আবারও সরকার গঠনের পথে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে এখন মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা ঘিরে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রিসভায় নাও দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি সারাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ নির্বাচনে মিত্র দলের ছয়জন নেতা নিজ নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম বিজয়ী হয়েছেন এবং তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও দক্ষ তরুণদের সমন্বয়ে এবারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় আছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার প্রস্তাব রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমে দলের পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি। এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন নজরুল ইসলাম খান। ফলে নতুন সরকারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন আলোচনা দলীয় ভেতরে ও বাইরে রয়েছে।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন। অন্যদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতে পরিচিত উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। তাঁরা নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ হতে পারেন।

দলীয় সূত্রগুলো আবারও উল্লেখ করছে, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বয়োজ্যেষ্ঠদের অনেকে বাদও পড়তে পারেন। পুরো দেশের আঞ্চলিক ভারসাম্য ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদে থাকা দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যদিও তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের নাম বিবেচনায় রয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতি-গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও অতীতে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে।

নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির নারী সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের একাধিক নারী সংসদ সদস্যের নাম বিবেচনায় রয়েছে।

সংখ্যালঘু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা ও পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় আছে।

এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতা জায়গা পেতে পারেন। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকজন সম্ভাব্য তরুণ নেতার নামও শোনা যাচ্ছে।

নারীদের মধ্য থেকেও স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন অঞ্চলের নারী এমপিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ছিলেন—এমন কয়েকজন ব্যক্তিকেও নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে।

বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় মিত্র দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের অঙ্গীকার ছিল বিএনপির। শরিক দল থেকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন নেতা। তাঁদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী শাহাদাত হোসেন সেলিমের বিষয়টিও আলোচনায় আছে।

সংখ্যালঘু ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এক প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের একজন নেতার নাম এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় রয়েছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা আকারে খুব বড় করা হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিছুটা সম্প্রসারিত হতে পারে। সেখানে উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা ভিন্ন পদবিতে একাধিক ব্যক্তিকে যুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্বব্যাংকে কর্মরত বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা আছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে রয়েছেন—এমন একজনের নামও আলোচনায় শোনা যাচ্ছে।

নতুন সংসদ ও সরকারকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা। এখন সবার দৃষ্টি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার দিকে।

বিদেশে অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন একজনের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে—তা জানতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।

 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়