ঢাকা: বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণে উপরের সারিতে

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ১০:৪০ এম, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬  
ঢাকা: বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণে উপরের সারিতে

পৃথিবীর বড় বড় মেগাসিটিগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের মাত্রা সর্বাধিক থাকা শহরের তালিকায় আজওঢাকাশীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানIQAir-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাতটায় রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের মান সূচক২৫২ স্কোররেকর্ড করা হয়েছে, যা তাকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায়দ্বিতীয় স্থানেঅবস্থান করিয়েছে।

ঢাকার এই উচ্চমানের বায়ুদূষণ মূলত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবহার, এবং নগরায়নের তীব্র চাপের কারণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত এই দূষণ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

এ ধরনের বায়ুমান সূচক “খারাপ” বা “অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়লে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, হৃদরোগ, চোখ-নাক-গলার অসুবিধা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টসহ রোগীদের ক্ষেত্রে প্রভাব আরও তীব্র হয়।

আইকিউএয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য দূষিত শহরগুলোর মধ্যে উত্তর ভারতের শহরগুলোও উচ্চ স্কোর দেখিয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকার দূষণের মাত্রা শহরের জন্য উদ্বেগের বিষয়, কারণ এটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞরা নগর প্রশাসন ও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যানবাহনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, গাছ লাগানো, শিল্পাঞ্চলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এবং পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানোর ব্যবস্থা নিতে।

শহরের বায়ুমানের এই চরম অবস্থা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নয়, বরং নগর জীবনের মান ও দেশের সামগ্রিক পরিবেশগত পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায়ঢাকাশহরের বাতাসে ধুলোবালু এবং অন্যান্য দূষক উপাদানের ঘনত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাজধানীর বায়ুমান বর্তমানেখুব অস্বাস্থ্যকর’হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গতকালও রাজধানী দূষিত শহরের তালিকায়দ্বিতীয় অবস্থানেছিল, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরণের দূষণ শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা, হৃদরোগ, চোখ-নাক-গলার সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতা বাড়াতে পারে, বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে।

শহরের বায়ুমানের এই অবনতি নগর জীবনের মান ও সামগ্রিক পরিবেশগত অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, দূষণ কমানোর জন্য নগরায়ন নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের সংখ্যা সীমিত করা, গাছপালা রোপণ এবং শিল্পাঞ্চলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

বর্তমান সময়েঢাকাশহর বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানIQAir-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাতটায় ঢাকার বায়ুমানের মান২৫২ স্কোররেকর্ড করেছে, যা ২০১–৩০০ স্কোরের মধ্যে পড়ে এবংখুব অস্বাস্থ্যকর’হিসাবে গণ্য হয়।

একই সময়েপাকিস্তানের লাহোর২৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের শীর্ষে অবস্থান করছে। তালিকার তৃতীয় অবস্থান দখল করেছেসেনেগালের ডাকার শহর (২৫১ স্কোর), চতুর্থ স্থানে রয়েছেভারতের দিল্লি(২৪৮ স্কোর) এবং পঞ্চম অবস্থানে আছেকলকাতা (২১৩ স্কোর)। শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এই শহরগুলোতে বায়ুমানের অবনতি ক্রমশ গুরত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোর এবং রাতের বেলা দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।

বায়ুমান সূচকের অর্থ ও মান

বায়ুমান সূচক বাAQI (Air Quality Index)অনুযায়ী, বায়ুমানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়:

  • ০–৫০ স্কোর: ভালো
  • ৫১–১০০ স্কোর: মাঝারি
  • ১০১–১৫০ স্কোর: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • ১৫১–২০০ স্কোর: সাধারণ মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • ২০১–৩০০ স্কোর: খুব অস্বাস্থ্যকর
  • ৩০০-এর বেশি: ঝুঁকিপূর্ণ, যা পরিবেশগত জরুরি অবস্থা নির্দেশ করে

ঢাকার২৫২ স্কোরমানে শহরের বায়ুমান বর্তমানে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে এবং নাগরিকদের জন্য তা একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তদের উচিত বাড়ির ভেতর থাকতে এবং বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা। সাধারণ নাগরিকদেরও বাইরের কঠোর শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দূষণের কারণ ও পরিবেশগত প্রভাব

ঢাকার বায়ুদূষণ মূলত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, জ্বালানি ও গ্যাস ব্যবহার এবং নগরায়নের চাপের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় ধুলোবালু ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজধানীর এই অসহনীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তারা উল্লেখ করেছেন, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ, শিল্পাঞ্চলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সবুজায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।

নগরবাসীর জন্য বার্তা

বায়ুমান সূচকের এই উচ্চমান নগরবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং তাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সরকারি পদক্ষেপ নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা, যানবাহন কম ব্যবহার এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহারে, ঢাকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বড় শহরের বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, নগর জীবনের মান ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্যও একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে, এটি ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় সংকটের কারণ হতে পারে।

 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়