‘আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি’

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ১১:৫৯ পিএম, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬  
‘আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি’

ঢাকা থেকে নেত্রকোণাগামী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে এক কিশোর হকারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক আচরণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে ঝুলে থাকা হকারের করুণ আকুতির পর সেখান থেকে পড়ে যাওয়ার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর হকার শরিফ চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে হ্যান্ডেল ধরে পাদানিতে কোনোমতে ঝুলে আছে। তার মাথায় মালামাল কোমল পানীয় ভর্তি একটি গামলা। সে সময় ট্রেনের ভেতর থেকে রেলওয়ে স্টাফদের বলতে শোনা যায়, ‘মালামাল ফেলে দাও, না হলে ভেতরে আসতে পারবে না।’ আতঙ্কিত হকার শরিফ বারবার চিৎকার করে বলছিল, ‘স্যার, দরজাটা খোলেন! আমি পড়ে যাবো! স্যার, ট্রেনটা কি একটু স্লো করা যায় না?’ ভিডিওতে দেখা যায়, শরিফ যখন জীবন বাঁচাতে আকুতি করছিল, তখন তাকে সাহায্যের পরিবর্তে ভয় দেখানো হচ্ছিল মালামাল ফেলে দেওয়ার জন্য। এক পর্যায়ে ট্রেনের গতির মুখে ভারসাম্য হারিয়ে সে নিচে পড়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলো। দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশন পাড় হয়ে ভাংগা ব্রিজ এলাকা পাড় হওয়ার সময় গতি কিছুটা কমায়। এ সময় হকার শরিফ মাথায় ১০-১২টি পানির বোতলসহ একটি বোল মাথায় নিয়ে লাফিয়ে ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেলে ঝুলে পড়েন। দরজা লক থাকায় তিনি আর ভিতরে ঢুকতে পারেননি। ওই ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা স্টুয়ার্ড সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ৩০-৪০ সেকেন্ডের মাঝেই পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়। হকার ছেলেটি যেই দরজায় লাফিয়ে উঠেছিল সে দরজাটি লক করা ছিল। এর চাবি অন্য আরেকজন কর্মকর্তার কাছে গচ্ছিত ছিল। সে যখন সাহায্য চাচ্ছিল তখন চাবি আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর ২০-২৫ সেকেন্ড পরেই সে ট্রেন থেকে পড়ে যায়। পরে আমরা তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি। ট্রেন পরিচালক বলেন, ট্রেন একটু স্লো চালায় ছেলেটির লাফিয়ে ট্রেনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। দরজা বন্ধ থাকায় আমরাও চেষ্টা করছিলাম লক খুলে ভেতরে আনতে। কিন্তু দরজা খোলার আগেই সে পড়ে যায়।

জানা যায়, হকার শরিফের বাবার নাম হান্নান মিয়া। তার বাড়ি সিলেট জেলার নবীগঞ্জ। কাজের সুবাদে সে কয়েক বছর যাবৎ গফরগাঁও থাকছে। আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে। বুধবার দুপুরে শরিফ মাথায় ব্যান্ডেজ পরিহিত অবস্থায় বলেন, ‘আমি তো মরেই যেতাম! সবাই ফেসবুকে লিখেছে আমি মারা গেছি, কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি।’

সে আরো জানায়, ট্রেনের গতি যখন বেড়ে যাচ্ছিল, সে বারবার দরজা খোলার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু দায়িত্বরত স্টাফরা দরজা না খুলে তাকে ধমক দিচ্ছিলেন। শরিফ বলে, ‘আমার মাথায় ১২ থেকে ১৩টি সেলাই লেগেছে। আমি শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।’ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা রেলওয়ে কর্মীদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, ট্রেনের গার্ড বা স্টুয়ার্ড ইচ্ছা করলেই দরজা খুলে কিশোরটির জীবন রক্ষা করতে পারতেন।

ময়মনসিংহের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আহত হকার শরীফ বর্তমানে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পাশে স্থানীয় একজনের সান্নিধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। সুস্থ হতে তার আরো বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়