আজ পবিত্র শবে মেরাজ
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ পবিত্র শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত এই রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পালন করবেন।
এ রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ নির্দেশে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনা ও ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণের সৌভাগ্য লাভ করেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনাই ‘ইসরা ও মেরাজ’ নামে পরিচিত। এ সময় মহানবী (সা.) আল্লাহর দিদার লাভ করেন এবং মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। ইতিহাস অনুযায়ী, এই বরকতময় রাতে মহানবী (সা.) ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে আরোহন করে সিদরাতুল মুনতাহা, বায়তুল মামুর, বেহেশতের নদীসহ জান্নাত ও ফেরেশতাদের বিভিন্ন নিদর্শন পরিদর্শন করেন।
পবিত্র শবে মেরাজ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। এ উপলক্ষে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।
শবে মেরাজ কি?
মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। পরিভাষায় মেরাজ হলো, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ; মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা।
মেরাজের একটা অংশ হলো ইসরা। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। যেহেতু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ রাত্রিকালে হয়েছিল, তাই এটিকে ইসরা বলা হয়। বিশেষত বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়ে থাকে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১ )।
মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবুওয়াতের ১১তম বছরের ২৭ রজবে। তখন নবীজির (সা.) বয়স ৫১ বছর। মেরাজ হয়েছিল সশরীরে জাগ্রত অবস্থায়। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের অস্বীকৃতি ও অবিশ্বাস। যদি আধ্যাত্মিক বা রুহানিভাবে অথবা স্বপ্নযোগে হওয়ার কথা বলা হতো, তাহলে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না। মেরাজের বিবরণ পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে সুরা ইসরায় বিবৃত হয়েছে। হাদিস শরিফ, বুখারি শরিফ, মুসলিম শরিফ, সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য কিতাবে এই ইসরা ও মেরাজের বিষয়টি নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ সূত্রে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘শপথ নক্ষত্রের যখন তা বিলীন হয়। তোমাদের সাথি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি। আর তিনি নিজে থেকে কোনো কথা বলেন না। (বরং তিনি যা বলেন) তা প্রদত্ত ওহি (ভিন্ন অন্য কিছু) নয়। তাকে শিখিয়েছেন মহাশক্তিধর (জিবরাইল আ.)। সে (জিবরাইল আ.) পাখাবিশিষ্ট, সে স্থিত হয়েছে দূর ঊর্ধ্বে। অতঃপর নিকটবর্তী হলো, পরে নির্দেশ করল।



















