শরীয়তপুরে শিশু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ১২:০১ এম, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬  
শরীয়তপুরে শিশু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুরে শিশু হৃদয় খান নিবির হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে তিনটি ধারায় মোট ২১ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের (সিনিয়র ও দায়রা জজ) বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় দেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত থেকে আসামিদের আদালত হাজতখানায় নেয়ার সময় পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশু হৃদয় খান নিবির শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী মনির খানের ছেলে। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই নিবিরকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর মুক্তিপণ হিসেবে হৃদয়ের মায়ের কাছে মুঠোফোনে কল করে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বছর ১ আগস্ট ভোরে খিলগাঁও এলাকার একটি ইটভাটার পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির দাদা আজগর আলী খান বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সিয়াম হোসেন, শাকিল হোসেন গাজি ও ১৫ বছর বয়সী তুহিন গাজীসহ চারজনকে। নিহত নিবিরের মা নিপা আক্তার বলেন, তুহিন গাজীর রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। শিশু বলে তাকে সাজা কম দেয়া হয়েছে। তুহিন হচ্ছে প্রধান পরিকল্পনাকারী। আর সিয়াম হোসেন ও শাকিল হোসেন গাজির রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমার দাবি উচ্চ আদালতেও যেন হত্যাকারীরা আপিল করেও কোনো রকমের ছাড় না পায়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শরীয়তপুরের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) কামরুল হাসান বলেন, ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সিয়াম ও শাকিলকে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। অন্যদিকে তুহিন শিশু হওয়ার কারণে তিনটি ধারায় ৫, ১০ ও ৬ বছর মোট ২১ বছর আটকাদেশ দেয় বিচারক। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যারা মূল অপরাধ করেননি, তাদের বড় সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়